সুদি ব্যাংকের জুলুম বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানি

0

আস সালাম ব্যাংক, বাহরাইন

 

জনসাধারণ যে সাত হাজার টাকা পায় সে সাত হাজার টাকাও পুঁজিপতি অন্যভাবে উসুল করে নেয়। আর তা এভাবে, ব্যবসায়ীদের নিয়ম হলো তারা যে সুদ ব্যাংককে পরিশোধ করে তা নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যয়ে যুক্ত করে নেয়। মনে করুন! কোনো ব্যবসায়ী এক লাখ টাকা ব্যয়ে কাপড় তৈরি করল। এই কাপড়ের মূল্য নির্ধারণ করার আগে সে তা প্রস্তুত করতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা হিসাব করবে। সেই ব্যয়ে সে ওই ১৫ হাজার টাকাও যুক্ত করবে,

যা সুদি হিসাবে ব্যাংককে পরিশোধ করেছিল

বাণিজ্যিক সুদ এমন এক গোলকধাঁধা যার প্রতিটি প্রক্রিয়াতেই জুলুম বিদ্যমান রয়েছে। যদি পুঁজিপতি ব্যবসায়ীর লাভ হয়, তা হলেও জুলুম। আর যদি লোকসান হয়, তা হলেও জুলুম। লাভ হওয়া অবস্থায় ঋণদাতার ওপর জুলুম। আর লোকসান হওয়া অবস্থায় ঋণ গ্রহণকারীর ওপর জুলুম। আজকের পৃথিবীতে ব্যাংকগুলোয় যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাতে ঋণদাতার ওপর অধিক পরিমাণে জুলুম হচ্ছে!

বিষয়টি বোঝার জন্য প্রথমে এ বিষয়টি হৃদয়ঙ্গম করা উচিত, সাধারণভাবে ব্যাংকগুলোয় জনসাধারণের আমানত গচ্ছিত থাকে। জনসাধারণের টাকায়ই ব্যাংক অস্তিত্বে আসে। কিন্তু এই জনসাধারণই যদি ব্যাংকে ঋণ নিতে যায়, তা হলে ব্যাংক তাদের ঋণ দেবে না! বরং ব্যাংক সেসব পুঁজিপতিকে ঋণ দিয়ে থাকে যাদের কাছে আগে থেকে পুঁজি বিদ্যমান রয়েছে; কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিরাট পরিসরে ব্যবসা করতে চায়। তারা হলো এমন সব পুঁজিপতি যাদের মালিকানায় কলকারখানা রয়েছে। তারা ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকে।

এখন অবস্থা এই হয়ে থাকে যে, (মনে করুন) একজন পুঁজিপতি ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা ১৫ শতাংশ সুদের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করল। এরপর সে এই অর্থের সঙ্গে নিজের পক্ষ থেকে আরও অর্থ যোগ করে ব্যবসা শুরু করল। অনেক সময় ব্যবসায় শতভাগ লাভও হয়ে যায়। কতক সময় লাভ কমও হয়। এখন চিন্তা করুন, ব্যবসায়ীর এই ব্যবসায় শতভাগ লাভ হয়েছে। ফলে তার পুঁজি এক লাখ থেকে দুই লাখ হয়ে গেছে! এক লাখ মূলধন এবং এক লাখ মুনাফা। এই মুনাফা থেকে সে ১৫ হাজার টাকা ব্যাংককে সুদ হিসেবে প্রদান করেছে। আর বাকি ৮৫ হাজার টাকা নিজের পকেটে রেখে দিয়েছে। এরপর ব্যাংক এই ১৫ হাজার টাকার মধ্য থেকে নিজের ব্যয় কর্তন করার পর কেবল সাত হাজার টাকা সেই জনসাধারণকে দিয়েছেÑ যাদের টাকায় ব্যবসা করে ব্যবসায়ী এক লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল! এই লাভের মধ্য থেকে স্বয়ং ব্যবসায়ী ৮৫ হাজার টাকা রেখে দিয়েছে। এর মাধ্যমে অনুমান করুন, জনসাধারণের ওপর কত জুলুম করা হচ্ছে! কিন্তু তারপরও জনসাধারণ খুশি, এক লাখ টাকার বিনিময়ে আমি সাত হাজার টাকা লাভ পেয়ে গেছি! অথচ তার এক লাখ টাকায় এক লাখ টাকা লাভ হয়েছিল.

Share.
মন্তব্য লিখুনঃ

 

',