বিশ্বকাপের নতুন পদ্ধতির কারণে ভালো করা কঠিন হবে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল

0

মোহাম্মদ আশরাফুলরাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হবে এবারের বিশ্বকাপ। ১০ দলের প্রত্যেকে একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেখান থেকে শীর্ষ চার দল উঠবে সেমিফাইনালে। দুই বছর আগে এই ইংল্যান্ডেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। তাই তারাও স্বপ্ন দেখছে বিশ্বকাপ শেষ চারে খেলার। কিন্তু বিশ্বকাপের নতুন পদ্ধতির কারণে ভালো করা কঠিন হবে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। তার মতে, এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করছে বোলারদের ওপর।

সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটার হিসেবে আছেন মাশরাফি মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল। ১৫ জনের বাকিরা তরুণ। তারুণ্যে ভরা একটি দল নিয়ে এবার ইংল্যান্ড যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই দলের ওপর আস্থা রাখছেন আশরাফুল।

ইংলিশ কন্ডিশনে উইকেট যেমনই হোক না কেন ভালো বোলিং করতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে বললেন আশরাফুল, ‘এনিয়ে আমরা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপ বিবেচনায় এটাই সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল। পাঁচ জন ক্রিকেটার আছেন যারা ১২ বছরের উপরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। গত বিশ্বকাপে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিলাম। কিন্তু এবার সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি ম্যাচ জিততে হবে। আমি মনে করি, সেমিফাইনাল খেলা একটু কঠিন হয়ে যাবে। কন্ডিশন বিবেচনায় আমাদের বেশির ভাগ বোলারদের ইনজুরি সমস্যা আছে। যেই ধরনের উইকেটে খেলা হবে, সেখানে ভালো বোলিং না করলে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে। টিম হিসেবে সেরা দল হলেও আগের মতো সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে।’

অন্য দলগুলোর পেসারদের চেয়ে বাংলাদেশের পেসাররা গতিতে কিছুটা পিছিয়ে আছে মনে করছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বললেন, ‘আমাদের বোলারদের যে গতি, এই জায়গায় মনে হয় আমরা একটু পিছিয়ে থাকবো। আমাদের বেশির ভাগ পেসারের গতি ঘণ্টায় ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার, কেবল রুবেল ১৪০ এ বোলিং করতে পারে। আমাদের জন্য ভালো ব্যাপার হলো মাশরাফি অধিনায়ক। ভালো অধিনায়ক থাকলে এসব ছোটখাটো জিনিস কাটিয়ে ওঠা যায়। সিনিয়ররা যদি তাদের সেরাটা এবং জুনিয়ররা যদি নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে পারে তাহলে ভালো কিছু আশা করতে পারি। কিন্তু ম্যাচ ধরে ধরে চিন্তা করলে একটু কঠিন। এই ধরনের কন্ডিশনে আমাদের থেকে বাকি দলগুলো অনেক ভালো।’

নতুন খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলে দলকে সহায়তা করবেন বিশ্বাস আশরাফুলের। এই বিশ্বকাপ দেশের কয়েক জন ক্রিকেটারকে নতুন করে চেনাবে আশাবাদী তিনি, ‘বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের তারকা বানায়। ওখানে ভালো খেলতে পারলে দেশের সঙ্গে নিজের সুনামও হয়। ৭ জন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে, তারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের সুপারস্টার। এখন শুধু আরেকটা ধাপ, যেখানে পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের এই ক্রিকেটারদের অনুসরণ করবে। এদের জন্য শুভ কামনা রইল।’

বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারকে বড় শক্তির জায়গা মনে করেন আশরাফুল, ‘আমাদের সুবিধা হচ্ছে মুশফিক, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহর মতো ব্যাটসম্যানরা। ওরা এনিয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলবে। এই মুহূর্তে তারা সেরা ফর্মে আছে। তারা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে যে কোনও দলের বিপক্ষে আমরা জিততে পারবো। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বোলিংও জরুরি।’

ইংলিশ কন্ডিশনে তিনশ’র উপর রান না হলে ম্যাচে লড়াই করা কঠিন হবে। আশরাফুল এনিয়ে আশাবাদী, ‘আমাদের সামর্থ্য আছে। তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ অনেক অভিজ্ঞ। যে উইকেট থাকবে, আমার মনে হয় সেখানে ৩০০ করা সম্ভব। কয়েকটা দল বাদে অন্যদের বিপক্ষে প্রত্যেক ম্যাচেই সম্ভব।’

ব্যাটিং নির্ভর উইকেটে স্পিনারদের বৈচিত্র অনেক জরুরি। সাকিব-মিরাজকেও সাফল্য পেতে বৈচিত্রের ওপর জোর দিতে হবে বললেন আশরাফুল, ‘সাকিব ও মিরাজ দুইজনই আমাদের হোম কন্ডিশনে ভালো পারফর্ম করে যাচ্ছে। এখন ব্যাটিং উইকেটে আমাদের বোলাররা কেমন করে সেটা দেখার বিষয়। নিউজিল্যান্ডে দেখেছি ব্যাটিং উইকেট ছিল, সেখানে স্পিন বোলারদের বৈচিত্র না থাকায় ম্যাচ কঠিন হয়ে যায়। আফগানিস্তানের রশিদ ও মুজিব এবং ভারতের কুলদীপ ও চাহালদের স্পিনে বৈচিত্র আছে বলেই তারা সাফল্য পাচ্ছে। ভালো ব্যাটিং উইকেটে স্পিন করাতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে যাবে।’

রিপর্টার শেখ তহা উসমানী

Share.
মন্তব্য লিখুনঃ

 

',